বাংলাদেশের টু-হুইলার শিল্পে ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই হাইব্রিড এবং ভার্সন ৪.০
বাংলাদেশের টু-হুইলার শিল্পে ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই হাইব্রিড এবং ভার্সন ৪.০: একটি বিশদ প্রযুক্তিগত এবং বাজার বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারের বিবর্তনের ইতিহাসে ইয়ামাহা এফজেডএস (FZS) সিরিজটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ২০০৮ সালে প্রথম বাজারে আসার পর থেকে এই সিরিজটি তার মাসকুলার ডিজাইন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের রাইডারদের কাছে একটি আদর্শ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে । বর্তমান প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশে ইয়ামাহার একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর এসিআই মটরস্ (ACI Motors) এই সিরিজে যোগ করেছে নতুন মাত্রা—ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই ভার্সন ৪.০ এবং ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই হাইব্রিড । এই প্রতিবেদনটি এই নতুন মডেলগুলোর যান্ত্রিক কাঠামো, হাইব্রিড প্রযুক্তির অন্তর্নিহিত কার্যপ্রণালী, বাজারের চাহিদা এবং আঞ্চলিক ডিলারশিপের বিস্তৃত তথ্য বিশ্লেষণ করবে।
ইয়ামাহা এবং এসিআই মটরসের কৌশলগত অংশীদারিত্বের পটভূমি
বাংলাদেশে ইয়ামাহার যাত্রা অনেক পুরনো হলেও ২০১৬ সালে এসিআই মটরসের সাথে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি হওয়ার পর থেকে ব্র্যান্ডটি একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় । এসিআই মটরসের কার্যকর বিপণন এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্ক ইয়ামাহাকে বাংলাদেশের প্রিমিয়াম মোটরসাইকেল সেগমেন্টে শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছে । বিশেষ করে এফজেডএস সিরিজের ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা এই অংশীদারিত্বের সফলতাকে প্রমাণ করে। ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আইসিসিবি-তে (ICCB) এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এফজেডএস ভার্সন ৪.০ আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়া হয় । এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে হাইব্রিড প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের টু-হুইলার শিল্পে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে ।
ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই ভার্সন ৪.০: যান্ত্রিক কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য
এফজেডএস ভার্সন ৪.০ মূলত একটি আধুনিক কমিউটার স্পোর্টস বাইক যা শহরের রাস্তায় সাবলীল যাতায়াত এবং স্টাইল—উভয়কেই প্রাধান্য দেয়। এর যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো অত্যন্ত আধুনিক এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব।
ইঞ্জিন এবং শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা
এই বাইকটিতে ১৪৯ সিসির একটি এয়ার-কুলড, ৪-স্ট্রোক, ২-ভালভ বিশিষ্ট এসওএইচসি (SOHC) সিঙ্গেল সিলিন্ডার ফুয়েল ইনজেক্টড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে । এই ইঞ্জিনটি ৭২৫০ আরপিএম-এ সর্বোচ্চ ৯.১ কিলোওয়াট বা ১২.৪ পিএস (১২.২৩ বিএইচপি) শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম । ইঞ্জিনের টর্ক উৎপাদনের ক্ষমতাও বেশ চিত্তাকর্ষক, যা ৫৫০০ আরপিএম-এ ১৩.৩ নিউটন মিটার পর্যন্ত পৌঁছায় । এই পরিমিত শক্তি এবং উচ্চ টর্কের সমন্বয় বাইকটিকে ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে দ্রুত গতি বাড়াতে বা ওভারটেক করতে সহায়তা করে।
ব্রেকিং এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তি
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইয়ামাহা সবসময় অগ্রগামী। ভার্সন ৪.০-এ সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস (ABS) প্রযুক্তির সাথে সাথে প্রথমবারের মতো ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেম (TCS) যুক্ত করা হয়েছে । ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেমটি চাকা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে পিচ্ছিল বা কর্দমাক্ত রাস্তায় এটি রাইডারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে ।
নিচে তথ্যগুলো পরিষ্কারভাবে বুলেটেড লিস্ট আকারে সাজানো হলো:
- ইঞ্জিন ডিসপ্লেসমেন্ট: ১৪৯ সিসি
- সর্বোচ্চ শক্তি: ১২.৪ পিএস @ ৭২৫০ আরপিএম
- সর্বোচ্চ টর্ক: ১৩.৩ এনএম @ ৫৫০০ আরপিএম
- ব্রেকিং সিস্টেম: সিঙ্গেল চ্যানেল এবিএস
- ট্র্যাকশন কন্ট্রোল: অন্তর্নিহিত ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম
- জ্বালানি সরবরাহ: ফুয়েল ইনজেকশন (FI)
হাইব্রিড প্রযুক্তি: স্মার্ট মোটর জেনারেটর (SMG) এর ভূমিকা
ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই হাইব্রিড মডেলটি বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে একটি বৈপ্লবিক সংযোজন। যদিও এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ ইলেকট্রিক বাইক নয়, তবে এতে ব্যবহৃত 'মাইল্ড হাইব্রিড' প্রযুক্তি রাইডিং অভিজ্ঞতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে ।
হাইব্রিড মেকানিজম এবং এস এম জি (SMG)
এই সিস্টেমের মূল চালিকাশক্তি হলো স্মার্ট মোটর জেনারেটর বা এস এম জি। প্রচলিত মোটরসাইকেলে ইঞ্জিন স্টার্ট করার জন্য একটি আলাদা স্টার্টার মোটর থাকে যা বেশ শব্দ তৈরি করে। কিন্তু হাইব্রিড মডেলে এস এম জি সরাসরি ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত থাকে এবং এটি একই সাথে জেনারেটর এবং স্টার্টার মোটর হিসেবে কাজ করে । এর ফলে বাইকটি অত্যন্ত নিঃশব্দে স্টার্ট নেয়, যাকে ইয়ামাহা 'সাইলেন্ট স্টার্ট' বলছে ।
যখন রাইডার হঠাৎ গতি বাড়ানোর জন্য থ্রটল দেন, তখন এস এম জি ব্যাটারির শক্তি ব্যবহার করে ইঞ্জিনের ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্টে অতিরিক্ত টর্ক প্রদান করে। এই বৈদ্যুতিক সহায়তা প্রায় ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এটি বাইকটিকে দ্রুত এক্সিলারেশন নিতে সাহায্য করে । ড্যাশবোর্ডের টিএফটি স্ক্রিনে যখন এই সিস্টেমটি সক্রিয় হয়, তখন একটি 'অ্যাসিস্ট' (Assist) সংকেত দৃশ্যমান হয় ।
স্টার্ট অ্যান্ড স্টপ সিস্টেম (SSS)
জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে ইয়ামাহা এতে 'স্টার্ট অ্যান্ড স্টপ সিস্টেম' যুক্ত করেছে। যখন বাইকটি ট্রাফিক সিগন্যালে বা জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকে এবং ইঞ্জিনটি অলস (Idle) অবস্থায় থাকে, তখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইঞ্জিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় । রাইডার যখন পুনরায় যাত্রা শুরু করতে চান, তখন শুধুমাত্র ক্লাচ লিভার চাপলেই ইঞ্জিনটি দ্রুত এবং নিঃশব্দে চালু হয়ে যায় । এটি অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
নিচে তথ্যগুলো পরিষ্কার বুলেটেড লিস্ট আকারে সাজানো হলো:
-
স্মার্ট মোটর জেনারেটর (SMG): সাইলেন্ট স্টার্ট এবং ইলেকট্রিক টর্ক বুস্ট
-
পাওয়ার অ্যাসিস্ট: নিচু আরপিএম-এ অতিরিক্ত এক্সিলারেশন
-
স্টার্ট অ্যান্ড স্টপ সিস্টেম: ট্রাফিক মোডে জ্বালানি সাশ্রয়
-
ব্যাটারি: ১২ ভোল্ট ৫ এএইচ, মেইনটেন্যান্স ফ্রি
আধুনিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেম: টিএফটি এবং ওয়াই-কানেক্ট
বর্তমান প্রজন্মের রাইডারদের স্মার্টফোনের সাথে যুক্ত থাকার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে ইয়ামাহা তাদের নতুন মডেলে যুক্ত করেছে উন্নত প্রযুক্তিগত ফিচার।
৪.২ ইঞ্চি কালার টিএফটি ডিসপ্লে
এফজেডএস হাইব্রিড মডেলে একটি অত্যাধুনিক ৪.২ ইঞ্চির টিএফটি (TFT) কালার ডিসপ্লে রয়েছে । এই ডিসপ্লেটি দিনের প্রখর রোদেও অত্যন্ত পরিষ্কার এবং এতে কল অ্যালার্ট, এসএমএস অ্যালার্ট, ব্যাটারি লেভেল এবং ঘড়ির মতো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শিত হয় । সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন হলো গুগল ম্যাপের সহায়তায় 'টার্ন বাই টার্ন' নেভিগেশন সুবিধা, যা রাইডারকে অজানা রাস্তায় পথ চিনতে সাহায্য করে ।
ওয়াই-কানেক্ট (Y-Connect) অ্যাপ্লিকেশনের সুবিধা
ইয়ামাহা মোটরসাইকেল কানেক্ট বা ওয়াই-কানেক্ট অ্যাপটি ব্লুটুথের মাধ্যমে ফোনের সাথে বাইককে যুক্ত করে । এর মাধ্যমে রাইডার নিচের সুবিধাগুলো পেতে পারেন:
- জ্বালানি খরচ ট্র্যাকার: বাইকটি কতটুকু মাইলেজ দিচ্ছে তার সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব ।
- শেষ পার্কিং লোকেশন: বাইকটি কোথায় পার্ক করা হয়েছে তা ম্যাপে দেখা যায় ।
- ম্যালফাংশন নোটিফিকেশন: ইঞ্জিনে বা কোনো সেন্সরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে সংকেত দেয় ।
- সার্ভিস রিকমেন্ডেশন: রাইডিং দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সার্ভিসিংয়ের সময়কাল মনে করিয়ে দেয় ।
- ডিজাইন এবং এরগনোমিক্স: পেশীবহুল বডি ও আরামদায়ক রাইডিং
এফজেডএস সিরিজটি তার শুরু থেকেই 'মাসকুলার স্ট্রিট ফাইটার' লুকে অনবদ্য। ভার্সন ৪.০ এবং হাইব্রিড মডেলে এই ডিজাইনকে আরও ধারালো করা হয়েছে।
আলোকসজ্জা এবং কসমেটিক পরিবর্তন
নতুন মডেলে এলইডি হেডলাইট এবং ডিআরএল (DRL) এর নতুন বিন্যাস করা হয়েছে যা বাইকটিকে একটি রোবটিক লুক দেয় । ইন্ডিকেটর বা টার্ন সিগন্যালগুলো এখন এলইডি এবং সেগুলো ফুয়েল ট্যাংকের এয়ার ডাক্টের সাথে সুচারুভাবে বসানো হয়েছে । বাইকটির ফুয়েল ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ১৩ লিটার, যা দীর্ঘ ভ্রমণে নির্ভরযোগ্যতা দেয় ।
রাইডিং পজিশন এবং ওজন
বাইকটির সিটের উচ্চতা ৭৯০ মিমি এবং ওজন ১৩৬ কেজি, যা একে অত্যন্ত সাবলীল এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তুলেছে । ৭-স্টেপ অ্যাডজাস্টেবল মনোক্রস সাসপেনশন রাইডারকে রাস্তার ঝাঁকুনি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং দীর্ঘ সময় বাইক চালানোর পরও ক্লান্তি অনুভূত হয় না ।
নিচে শারীরিক পরিমাপগুলো বুলেটেড লিস্ট আকারে দেওয়া হলো:
-
মোট দৈর্ঘ্য: ২০০০ মিমি
-
সিটের উচ্চতা: ৭৯০ মিমি
-
কার্ব ওয়েট (ওজন): ১৩৬ কেজি
-
গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স: ১৬৫ মিমি
-
হুইলবেস: ১৩৩০ মিমি
বাজার মূল্য এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এসিআই মটরস্ সাধারণত এই বাইকগুলো আমদানি এবং সংযোজন (CKD/CBU) করে থাকে।
বর্তমান মূল্য তালিকা (জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী)
ইয়ামাহা এফজেডএস ভার্সন ৪.০ এবং হাইব্রিড মডেলের দামের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে, যা মূলত উন্নত প্রযুক্তির কারণে।
নিচে মডেল ও মূল্য তথ্যগুলো বুলেটেড লিস্ট আকারে পরিষ্কারভাবে দেওয়া হলো:
ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই ভার্সন ৪.০
- নিয়মিত মূল্য: ২৯৯,৫০০.০০ বিডিটি
- অফার মূল্য: ২৯৬,৫০০.০০ বিডিটি
ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই হাইব্রিড
- নিয়মিত মূল্য: ৩৪৯,৫০০.০০ বিডিটি
- অফার মূল্য: ৩৪৯,৫০০.০০ বিডিটি
ইয়ামাহা এফজেডএস ভি৪ সিবিইউ (হাইব্রিড)
- নিয়মিত মূল্য: ৩৮৫,০০০.০০ বিডিটি
- অফার মূল্য: বাজার সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল
হাইব্রিড মডেলটি সাধারণ ভি৪ মডেলের তুলনায় প্রায় ৫০,০০০ টাকা বেশি দামী হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সাশ্রয় এবং রিসেল ভ্যালু রাইডারদের আকৃষ্ট করছে । অনেক শোরুমে ৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডাউন পেমেন্টে কিস্তি বা ইএমআই (EMI) সুবিধাও পাওয়া যায় ।
আঞ্চলিক ডিলারশিপ এবং সার্ভিস নেটওয়ার্ক: ঢাকা ও গাজীপুর
একজন ক্রেতার জন্য বাইক কেনার আগে তার আশেপাশে অথরাইজড শোরুম এবং সার্ভিস সেন্টারের অবস্থান জানা জরুরি। এসিআই মটরস্ ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
ঢাকা ও টঙ্গী অঞ্চলের প্রধান শোরুমসমূহ
ঢাকার কেন্দ্রস্থলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ইয়ামাহার ফ্ল্যাগশিপ শোরুম অবস্থিত । এছাড়া উত্তরা, মিরপুর এবং ধানমন্ডি এলাকায় বড় ডিলার পয়েন্ট রয়েছে।
নিচে শোরুম ও ডিলার তথ্যগুলো বুলেটেড লিস্ট আকারে পরিষ্কারভাবে সাজানো হলো:
- অবস্থান: ২৪৯–২৫২, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা
- যোগাযোগ নম্বর: ০৯৬০৬৬১২২৪৫
ইয়ামাহা ৩এস সেন্টার (ধানমন্ডি)
- অবস্থান: ধানমন্ডি, ঢাকা
- যোগাযোগ নম্বর: ০১৭৩০-৭২৭৪৭৫
গ্রিন মটরস্
- অবস্থান: সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা
- যোগাযোগ নম্বর: ০১৮৯৪৮২২৩৩৪
ডিএনএস মটরস্
- অবস্থান: ঢাকা
- স্ট্যাটাস: ডিলার পয়েন্ট
ক্রিসেন্ট এন্টারপ্রাইজ (মিরপুর)
- অবস্থান: মিরপুর, ঢাকা
- স্ট্যাটাস: ডিলার পয়েন্ট
গাজীপুর ও টঙ্গী অঞ্চলের শোরুমসমূহ
গাজীপুর জেলা এবং টঙ্গী ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া ইয়ামাহার জন্য একটি বড় বাজার। এখানে বেশ কিছু বিশ্বস্ত শোরুম রয়েছে যা বিক্রয় এবং বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করে । নিচে গাজীপুর ও টঙ্গী অঞ্চলের ইয়ামাহা শোরুমসমূহ পরিষ্কারভাবে বুলেটেড লিস্ট আকারে দেওয়া হলো:
ইয়ামাহা শোরুম (গাজীপুর)
- অবস্থান: সি-৭১, ভোগড়া, গাজীপুর
- যোগাযোগ: ০১৭০০৭৬৭৯৮৪
- অবস্থান: গাজীপুর চৌরাস্তা
- পরিষেবা: সেলস ও সার্ভিস
সাওয়ারি বিডি গাজীপুর
- অবস্থান: গাজীপুর
- যোগাযোগ: ০১৭৬৪০০০০৩০৫
সেনা কল্যাণ শপিং কমপ্লেক্স ডিলার
- অবস্থান: টঙ্গী, গাজীপুর
- যোগাযোগ: ০১৭১২-১১২৪৬৮
সাওদা এন্টারপ্রাইজ
- অবস্থান: মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর, গাজীপুর
- যোগাযোগ: ০১৭১৩৫১৮৩৮৭
গাজীপুরের ভোগড়া এবং চৌরাস্তা এলাকার শোরুমগুলোতে বড় আকারের সার্ভিসিং সুবিধাও বিদ্যমান, যেখানে স্পেয়ার পার্টস সহজলভ্য।
বি:দ্র: মোবাইল নম্বর সবগুলো যাচাই-বাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
একজন সাধারণ রাইডার যখন এফজেডএস হাইব্রিড বা ভি৪ চালান, তখন তাদের অভিজ্ঞতার মূল ভিত্তি থাকে ইঞ্জিনের রিফাইনমেন্ট এবং মাইলেজ।
মাইলেজ এবং জ্বালানি দক্ষতা
ইয়ামাহা দাবি করে যে তাদের হাইব্রিড প্রযুক্তির কারণে মাইলেজ লিটারে প্রায় ৫০-৬০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে । তবে বাংলাদেশের শহরের জ্যামপূর্ণ রাস্তায় ব্যবহারকারীদের ভাষ্যমতে এটি লিটারে ৪৩-৪৬ কিমি মাইলেজ প্রদান করে । হাইওয়েতে রাইডিং স্টাইলভেদে এটি ৫০ কিমি প্লাস মাইলেজ দিতে সক্ষম।
টপ স্পিড এবং এক্সিলারেশন
এই বাইকটি মূলত হাই-স্পিড রেসিংয়ের জন্য নয়, বরং স্মুথ কমিউটিংয়ের জন্য তৈরি। এর টপ স্পিড প্রায় ১১০ থেকে ১১৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা । তবে হাইব্রিড অ্যাসিস্টের কারণে ০ থেকে ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতে এটি আগের ভার্সনগুলোর তুলনায় দ্রুত সময় নেয় । ইঞ্জিনের ভাইব্রেশন বা কম্পন অত্যন্ত কম হওয়ায় হাই স্পিডেও রাইডার নিরাপদ বোধ করেন।
রক্ষণাবেক্ষণ টিপস
ইয়ামাহা এফজেডএস সিরিজের জন্য ১০ডব্লিউ৪০ (10W40) গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল সবচেয়ে উপযোগী । প্রথম সার্ভিসটি ১০০০ কিমি বা ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা উচিত । সেন্সর প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় উচ্চমানের পেট্রোল বা অকটেন ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে যেহেতু এটি ই২০ (E20) জ্বালানি সামঞ্জস্যপূর্ণ ।
প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের ১৫০ সিসি বাজার
বাংলাদেশের বাজারে ইয়ামাহা এফজেডএস-এর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অন্যান্য নামী ব্র্যান্ডের শক্তিশালী মডেলগুলো।
- সুজুকি জিক্সার (Suzuki Gixxer): জিক্সারের এক্সিলারেশন এফজেডএস-এর তুলনায় কিছুটা আগ্রাসী হলেও বিল্ড কোয়ালিটি এবং আধুনিক ফিচারের দিক থেকে ইয়ামাহা এগিয়ে।
- টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর ১৬০ ৪ভি (Apache RTR 160 4V): অ্যাপাচির টপ স্পিড বেশি কিন্তু এর ইঞ্জিনের রিফাইনমেন্ট ইয়ামাহার মতো নিঃশব্দ নয়।
- হোন্ডা এক্স-ব্লেড (Honda X-Blade): দামের দিক থেকে হোন্ডা সাশ্রয়ী হলেও ইয়ামাহার ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং হাইব্রিড প্রযুক্তির অভাব সেখানে অনুভূত হয়।
উপসংহার: কেন ইয়ামাহা এফজেডএস হাইব্রিড বা ভি৪ বেছে নেবেন?
ইয়ামাহা এফজেডএস এফআই ভার্সন ৪.০ এবং হাইব্রিড মডেল দুটি শুধুমাত্র যাতায়াতের বাহন নয়, বরং এটি একটি আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতিফলন । বাংলাদেশে যারা প্রিমিয়াম কমিউটার বাইক খুঁজছেন, যাদের কাছে নিরাপত্তা (TCS ও ABS) এবং আধুনিক প্রযুক্তি (Hybrid ও Y-Connect) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাদের জন্য এই মডেলগুলো সেরা সমাধান হতে পারে । যদিও এর দাম কিছুটা বেশি, তবে এর আরামদায়ক রাইডিং, উন্নত সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং উচ্চ রিসেল ভ্যালু একে একটি লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত করেছে । এসিআই মটরসের বিশ্বস্ত ডিস্ট্রিবিউশন এবং ইয়ামাহার বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রযুক্তির সংমিশ্রণ বাংলাদেশের টু-হুইলার শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে, যা আগামী দিনে আরও উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসবে বলে আশা করা যায় ।


কাজীআরিফুল ডট কমে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url