OrdinaryITPostAd

অন্ধকারে মোবাইল বা বই - চোখ কি সত্যিই নষ্ট হয়ে যায়? (Eye Health Myths vs Reality)

একটা দৃশ্য কল্পনা করুন তো।

রাত ২টা। রুমের লাইট নেভানো। চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু লেপের নিচে একটা হালকা নীলাভ আলো জ্বলছে। আপনি একমনে স্ক্রল করে যাচ্ছেন ফেসবুকে বা ইউটিউবে। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ, কিংবা আম্মুর গলা—"অন্ধকারে ওভাবে ফোন দেখিস না, চোখ দুটো নষ্ট হয়ে অন্ধ হয়ে যাবি!"
খুব চেনা দৃশ্য, তাই না?
Mobile or book in the dark - does it really damage the eyes? (Eye Health Myths vs Reality)
আমাদের সবার ছোটবেলা কেটেছে এই একটা ভয় নিয়ে। লোডশেডিংয়ের রাতে মোমবাতির আলোয় পড়তে বসলেই মুরুব্বিরা বলতেন, "আলো জ্বালিয়ে পড়, নইলে চশমা নিতে হবে।" আর এখন, এই স্মার্টফোনের যুগে সেই ভয়টা আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আমরা অনেকেই গিল্ট ফিল করি। মনে হয়, এই যে প্রতি রাতে অন্ধকারে চ্যাট করছি বা মুভি দেখছি, আমি কি আসলে নিজের চোখ দুটোকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছি? সত্যিই কি আমার রেটিনা পুড়ে যাচ্ছে?

সত্যি বলতে, এই প্রশ্নটা আমাকেও অনেকদিন ভুগিয়েছে।

আমি টেকনোলজি লাভার। গ্যাজেট আর স্ক্রিন আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই যখন শুনলাম অন্ধকারে ফোন দেখলে চোখের বারোটা বাজে, তখন ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু "নিজে জানুন অন্যকে জানান"—এই মন্ত্রে বিশ্বাসী আমি কখনো শোনা কথায় কান দিই না। আমি ডুব দিয়েছিলাম বিজ্ঞানের গভীরে। চোখের ডাক্তাররা কী বলেন? অপথালমোলজিস্টদের রিসার্চ কী বলে?

আজকের ব্লগে আমি সেই সত্যটাই আপনাদের সামনে তুলে ধরব। কোনো কঠিন মেডিকেল টার্ম নয়, বন্ধুর মতো করে বুঝিয়ে বলব।

আজ জানব, আম্মুর সেই বকুনি কি শুধুই কুসংস্কার ছিল, নাকি এর পেছনে আসলেই কোনো ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে আছে। উত্তরটা জানলে হয়তো আপনি চমকে যাবেন। হয়তো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন, অথবা... হয়তো আজ থেকেই অভ্যাসটা বদলাবেন। চলুন, মিথ আর ফ্যাক্টের এই গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসি।

বডি সেকশন (Main Content)

ছোটবেলার সেই ভয়: চোখের কি আসলেই 'পাওয়ার' কমে যায়?

শুরুতেই একটা স্পয়লার দিই।

অন্ধকারে বই পড়লে বা মোবাইল দেখলে আপনার চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট বা অন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আজও পাওয়া যায়নি।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।

বিষয়টা একটু লজিক দিয়ে ভাবুন। আমাদের চোখ আসলে একটা ক্যামেরার মতো। আর চোখের লেন্স ফোকাস করার জন্য যে পেশীগুলো (Ciliary muscles) কাজ করে, সেগুলো শরীরের অন্য যেকোনো পেশীর মতোই।

আপনি যখন জিমে গিয়ে পায়ের ব্যায়াম করেন, তখন কি আপনার পা নষ্ট হয়ে যায়? নাকি পা সাময়িকভাবে ক্লান্ত হয় এবং একটু রেস্ট নিলেই আবার ঠিক হয়ে যায়? চোখের ব্যাপারটাও ঠিক তাই। কম আলোতে দেখার চেষ্টা করলে চোখের পেশীগুলোকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয় ফোকাস ঠিক রাখার জন্য। এর ফলে চোখ ক্লান্ত হয়, ব্যথা করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, চোখের গঠনগত কোনো পরিবর্তন হচ্ছে বা আপনি অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয়"Digital Eye Strain"বা"Computer Vision Syndrome" । এটা সাময়িক। ঘুম দিলেই সেরে যায়।

তাহলে সমস্যাটা কোথায়? (The Real Villain)

"তার মানে কি আমি এখন সারা রাত অন্ধকারে ফোন টিপব?"

দাঁড়ান, দাঁড়ান! অত খুশি হওয়ার কিছু নেই। অন্ধ হবেন না ঠিকই, কিন্তু আপনি যা করছেন, সেটাকে চোখের ওপর এক ধরনের অত্যাচারই বলা চলে। কেন?

প্রথমত, ব্লিংক রেট (Blinking):স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা মিনিটে প্রায় ১৫-২০ বার চোখের পলক ফেলি। কিন্তু যখন অন্ধকারে ফোনের ব্রাইট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন আমাদের পলক ফেলার হার কমে ৫-৭ বারে নেমে আসে! বিশ্বাস হচ্ছে না? এখন খেয়াল করুন, আপনি এই লেখাটা পড়ার সময় কতক্ষণ পর পলক ফেললেন। পলক কম ফেলার কারণে চোখের পানি শুকিয়ে যায়। শুরু হয় Dry Eye Syndrome । চোখ জ্বালাপোড়া করে, মনে হয় চোখের ভেতর বালি পড়েছে।

দ্বিতীয়ত, ব্লু লাইট এবং ঘুমের বারোটা:চোখ নষ্ট হওয়ার চেয়েও বড় ক্ষতিটা হয় আপনার ঘুমের। স্মার্টফোন থেকে যে নীল আলো (Blue Light) বের হয়, তা আমাদের ব্রেইনকে ধোঁকা দেয়। ব্রেইন মনে করে এখনো দিন আছে, তাই সে ঘুমের হরমোন (Melatonin) রিলিজ করা বন্ধ করে দেয়। রেজাল্ট? ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা। আর ঘুম না হলে শরীর খারাপ হবেই।

স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস: গুজব নাকি সত্যি?

কয়েক বছর আগে একটা নিউজ খুব ভাইরাল হয়েছিল—"স্মার্টফোন ব্লাইন্ডনেস"। বলা হচ্ছিল, অন্ধকারে এক চোখ বালিশে চেপে অন্য চোখে ফোন দেখলে মানুষ সাময়িকভাবে অন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এটাকে ডাক্তারি ভাষায় বলে Transient Smartphone Blindness
ভয় পাবেন না। এটা স্থায়ী অন্ধত্ব নয়। অন্ধকারে এক চোখে তীব্র আলো পড়লে সেই চোখটা লাইট অ্যাডাপ্ট করে ফেলে, আর অন্য চোখটা ডার্ক অ্যাডাপ্ট করে থাকে। ফোন বন্ধ করার পর কিছুক্ষণ এক চোখে অন্ধকার দেখা যায়। এটা কয়েক মিনিটেই ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এই কয়েক মিনিট আপনার হার্টবিট বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!

মায়োপিয়া বা দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা

এখন অনেক বাবা-মা প্রশ্ন করবেন, "তাহলে আজকাল এত ছোট ছোট বাচ্চাদের চোখে চশমা কেন?"

গবেষণা বলছে, এর মূল কারণ অন্ধকারে পড়া নয়। এর মূল কারণ হলো সূর্যালোকের অভাব (Lack of Sunlight)এবং কাছের জিনিসে অতিরিক্ত ফোকাস করা (Near Work)। আগে আমরা বিকেলে মাঠে খেলতাম। এখন বাচ্চারা চার দেয়ালের ভেতর ট্যাবে কার্টুন দেখে। দূরের জিনিস দেখার প্র্যাকটিসটাই তো হয় না! চোখের মণি লম্বাটে হয়ে যায়, তৈরি হয় মায়োপিয়া। দোষটা অন্ধকারের নয়, দোষটা সারাদিন স্ক্রিনে মুখ গুঁজে থাকার।

স্মার্ট সলিউশন: চোখ বাঁচানোর ৩টি গোল্ডেন রুলস

প্রযুক্তি তো আর বাদ দেওয়া যাবে না। কাজ করতেই হবে, চ্যাট করতেই হবে। তাহলে উপায়?
আমি নিজে যা মেনে চলি এবং ডাক্তাররা যা সাজেস্ট করেন, তা হলো:
  • রুল ১: ২০-২০-২০ নিয়ম -এটা চোখের জন্য অমৃত। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর, ২০ সেকেন্ডের জন্য বিরতি নিন এবং অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান। জানালার বাইরে গাছের দিকে তাকাতে পারেন। এটা চোখের ফোকাসিং মাসলগুলোকে রিল্যাক্স হতে সাহায্য করে।
  • রুল ২: ব্রাইটনেস ব্যালেন্স - ফোনের ব্রাইটনেস কখনোই আশেপাশের আলোর চেয়ে বেশি বা কম হওয়া উচিত নয়। রুম অন্ধকার থাকলে ফোনের ব্রাইটনেস কমান। রুম আলোকিত থাকলে ব্রাইটনেস বাড়ান। আর দয়া করে , রাতের বেলা ফোনের "Eye Comfort Shield"বা"Reading Mode"(যেটা স্ক্রিনকে হলদে করে দেয়) অন করে রাখুন। এটা ব্লু লাইটের ক্ষতি কমায়।
  • রুল ৩: নাইট ল্যাম্প ব্যবহার -অন্ধকারে পড়ার অভ্যাস থাকলে বা ফোন চালালে, ঘরে অন্তত একটা ডিম লাইট বা নাইট ল্যাম্প জ্বালিয়ে রাখুন। এতে স্ক্রিন এবং রুমের আলোর মধ্যে কন্ট্রাস্ট কমে আসে, চোখের ওপর চাপ কম পড়ে।

অন্ধকারে বই পড়লে বা মোবাইল দেখলে কি চোখ নষ্ট হয়? সত্যি না গুজব?

সোজা উত্তরটা দিয়েই শুরু করি? না, অন্ধকারে বই পড়লে বা মোবাইল দেখলে আপনার চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয় না। চোখ অন্ধ হয়ে যাবে, বা চশমার পাওয়ার একদম আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে – এমনটা হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পিএঁচ!

কিন্তু... এখানেই কথা শেষ নয়। একটা বড়সড় 'বাট' আছে। কারণ, স্থায়ী ক্ষতি না হলেও, আপনি আপনার চোখকে যে অস্বস্তিকর, যন্ত্রণাদায়ক অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, সেটা একদমই রিয়েল। এটা like constantly poking a bear with a stick. bearটা হয়তো আপনাকে খাবে না, কিন্তু একদিন বিরক্ত হয়ে আপনাকে জখম করবেই।

কি exactly happens যখন আপনি অন্ধকারে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন?

ডিজিটাল আই স্ট্রেন (Digital Eye Strain): এটাই মূল ব্যাপার। আপনার চোখের মাসলগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আলো কম থাকলে, চোখের পিউপিল (পুতুলি) বেশি বেশি খুলে আলো ঢোকার ব্যবস্থা করে। আবার টিভি বা মোবাইলের স্ক্রিন অনেক brighter হয়। এই contrast (বিপরীততা) চোখের জন্য একেবারেই স্বাভাবিক নয়। ফলে, চোখের ভেতরের ছোট ছোট মাসলগুলোকে বেশি কাজ করতে হয়। সারাক্ষণ চাপে থাকা এই মাসলগুলোর কারণে দেখা দেয় –
  • চোখ শুকনো লাগা (কম ব্লিঙ্ক করার ফলে)
  • জ্বালা-পোড়া
  • ঝাপসা দেখা
  • মাথাব্যথা
  • ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা

ব্লু লাইটের খেলা: আমরা সবাই ব্লু লাইটের নাম শুনেছি। এই নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট, তাই এটি scattered হয় বেশি। এর মানে হল, এই আলো ফোকাস করতেই চোখকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। অন্ধকারে এই effectটা আরও বেড়ে যায়। ফলে চোখের strain বহুগুণ বেড়ে যায়।

স্লিপ সাইকেল এ ব্যাঘাত: এটা একটা critical point. রাতের অন্ধকারে আপনার ফোনের নীল আলো সরাসরি আপনার ব্রেইনের পিনিয়াল গ্ল্যান্ডকে confused করে দেয়। এই গ্ল্যান্ড melatonin নামক হরমোন নিঃসরণ করে, যেটা আপনাকে ঘুমপাড়িয়ে দেয়। ফোনের আলো সেই হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। Result? আপনার ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুমের quality খারাপ হয়। পরের দিন ক্লান্তি, ঝিমুনি, কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা – এই সমস্যাগুলো হয়। So, you're not just hurting your eyes, you're messing up your entire sleep schedule.

তাহলে কী করণীয়? কিছু practical tips

  • লাইট অন করুন: সবচেয়ে সহজ সমাধান। একটা ambient light, যেমন রুমের কর্নারের ল্যাম্পটা জ্বালিয়ে দিন। স্ক্রিনের আলো যাতে একমাত্র আলোর উৎস না হয়, সেটা নিশ্চিত করুন।
  • ২০-২০-২০ রুল: এটা golden rule. প্রতি ২০ মিনিটে, ২০ সেকেন্ডের জন্য, ২০ ফুট দূরের কোনও জিনিসের দিকে তাকান। Seriously, এটি magic-এর মতো কাজ করে।
  • ব্রাইটনেস অ্যাডজাস্ট করুন: ফোন বা ল্যাপটপের brightness ambient light-এর সাথে match করুন। রাতের জন্য 'Night Shift' বা 'Blue Light Filter' mode টা অন করে দিন।
  • ব্লিঙ্ক করুন: হ্যাঁ, সচেতনভাবে চোখ পিটপিট করুন। আমরা স্ক্রিনে থাকলে blink rate প্রায় ৬০% কমে যায়।
  • টেক্স্ট সাইজ বড় করুন: ছোট অক্ষর জোর করে পড়তে গিয়েই চোখের উপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে।

শেষকথা (Conclusion)

লেখাটা শেষ করার আগে একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি।

সেদিন আমার কাজিন, যে ক্লাস এইটে পড়ে, খুব ভয়ে ভয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল, "ভাইয়া, আমি তো লেপের নিচে লুকিয়ে গেম খেলি, আমার চোখ কি সত্যিই পচে যাবে?" ওর চোখে যে আতঙ্কটা দেখলাম, সেটা আমাকে ভাবালো। আমরা বড়রা অনেক সময় বাচ্চাদের ভালো করতে গিয়ে এমন সব ভয় দেখাই, যা তাদের মনে গেঁথে যায়। হ্যাঁ, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার খারাপ। অন্ধকারে পড়া চোখের জন্য আরামদায়ক নয়। এতে মাথাব্যথা হবে, চোখ শুকিয়ে যাবে, ঘুম নষ্ট হবে। এগুলো সবই সমস্যা।

কিন্তু দয়া করে "অন্ধ হয়ে যাবি"—এই ভুল তথ্যটা ছড়াবেন না।

"নিজে জানুন অন্যকে জানান"—আমাদের এই ব্লগের উদ্দেশ্যই হলো ভয় দূর করে সচেতনতা তৈরি করা। অন্ধকারের ভয় না দেখিয়ে, বরং সঠিক অভ্যাসের চর্চা করা শেখান। আমি এখন রাতে ফোন ব্যবহারের সময় অবশ্যই ওয়ার্ম লাইট (Warm Light) মোড অন রাখি। এবং চেষ্টা করি ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোনটা দূরে রাখতে। বিশ্বাস করুন, এতে শুধু চোখ নয়, আমার মানসিক শান্তিও বেড়েছে। ঘুমটা এখন অনেক গভীর হয়। আপনার চোখ দুটো অমূল্য। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এই লেন্সের কোনো রিপ্লেসমেন্ট হয় না। তাই একে অকারণে ক্লান্ত করবেন না। একটু সচেতনতা, একটু যত্ন—ব্যাস, এটুকুই তো দরকার। প্রযুক্তি আমাদের ভৃত্য হয়ে থাকুক, মনিব যেন না হয়। ভালো থাকুক আপনার সুন্দর চোখ দুটো। এবং অবশ্যই, লোডশেডিংয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ার সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলো যদি মিস করেন, তবে মাঝে মাঝে লাইট নিভিয়ে মোমবাতির আলোয় প্রিয় কোনো বই পড়তেই পারেন। চোখ অন্ধ হবে না, কথা দিচ্ছি! শুধু ২০ মিনিট পর একটু ব্রেক নিতে ভুলবেন না।

তো, কথাটা clear. অন্ধকারে মোবাইল দেখলে চোখ নষ্ট হয় – এই কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়, কিন্তু একেবারে মিথ্যও নয়। এটা like playing with fire. আগুনে হাত দিলে হাতটা হয়তো পুড়ে যাবে না, কিন্তু সেটা যে খুবই uncomfortable, right? আমাদের চোখ দুটো আমাদের সবচেয়ে দামি asset-এর মধ্যে একটা। আমরা সারাদিনে যা কিছু শিখি, উপভোগ করি, তার ৮০%ই আসে এই দুটো organ-এর মাধ্যমে। একটা স্মার্টফোন, একটা ল্যাপটপের চেয়ে এদের দাম কতটা বেশি, সেটা ভাবুন। আমরা যেভাবে আমাদের গাড়ির servicing করি, ফোনের screen protector লাগাই, ঠিক সেই sense of responsibility-টাই কিন্তু আমাদের চোখের প্রতিও থাকা উচিত। এটা কোনও বিলাসিতা নয়, একান্তই প্রয়োজন। তাই আজ থেকেই small habits-এ change আনুন। next time রাতে যখন ফোন হাতে নেবেন, automatically আপনার হাত light switch-এর দিকে চলে যাক। ২০-২০-২০ rule-টা reminder সেট করে দিন। আপনার চোখ আপনাকে later-এ thank you বলবে। আমি নিজেও এই habits follow করার চেষ্টা করছি, এবং differenceটা feel করতে পারছি।

নিজে জানলেন, এখন আপনার প্রিয়জনের সাথে এই knowledgeটা share করুন। কারণ, সচেতনতাই হল প্রথম এবং সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

কল টু এ্যাকশন (Call to Action)

আপনার কাছে একটা প্রশ্ন:আপনি কি রাতে ঘুমানোর আগে ফোন ডার্ক মোডে (Dark Mode) ব্যবহার করেন, নাকি রিডিং মোডে (হলদে আলো)? কোনটা চোখের জন্য বেশি আরামদায়ক মনে হয় আপনার কাছে? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান! আর এই লেখাটি যদি আপনার সামান্যতম উপকারেও আসে, তবে প্লিজ শেয়ার করে আপনার সেই বন্ধুটিকে দেখার সুযোগ করে দিন—যে ভাবে অন্ধকারে ফোন দেখলেই চোখ নষ্ট হয়ে যাবে! সচেতনতা ছড়িয়ে দিন।

এই পোস্টটি কি আপনার কাজে লেগেছে? আপনার কোনো বন্ধন বা Family member কি রাত জেগে ফোন টিপতে ভালোবাসেন? তাদের সাথে এই articleটি share করুন। আর, আপনার নিজের কোনো অভিজ্ঞতা বা চোখ ভালো রাখার টিপস থাকলে নিচে comment-এ আমাদের সবাইকে জানান। 'নিজে জানুন, অন্যকে জানান' – এই philosophy-টা তো আমাদের! Let's build a community of conscious users.

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১. ব্লু-লাইট চশমা (Blue Light Glasses) কি আসলেই কাজ করে?

  • উত্তর:এই বিষয়ে মিশ্র মতামত আছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে এটি চোখের ক্লান্তি কমাতে সামান্য সাহায্য করে, আবার আমেরিকান একাডেমি অফ অপথালমোলজি বলে যে কম্পিউটার ব্যবহারের সময় চোখের সমস্যার জন্য বিশেষ কোনো চশমার প্রয়োজন নেই। তবে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত এড়াতে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

প্রশ্ন ২. ডার্ক মোড (Dark Mode) কি চোখের জন্য ভালো?

  • উত্তর:হ্যাঁ এবং না। রাতে বা কম আলোতে ডার্ক মোড চোখের আরাম দেয় কারণ এতে গ্লেয়ার বা তীব্র আলো কম থাকে। কিন্তু দিনের বেলা বা খুব আলোকিত পরিবেশে ডার্ক মোড ব্যবহার করলে চোখের ওপর উল্টো চাপ পড়তে পারে এবং লেখা পড়তে কষ্ট হতে পারে।

প্রশ্ন ৩. শুয়ে শুয়ে পড়লে বা ফোন দেখলে কি চোখের ক্ষতি হয়?

  • উত্তর:শুয়ে পড়ার চেয়ে বসে পড়া চোখের জন্য ভালো। শুয়ে পড়লে আমরা সাধারণত বই বা ফোন চোখের খুব কাছে ধরে রাখি এবং অ্যাঙ্গেলটা ঠিক থাকে না। এতে চোখে অতিরিক্ত চাপ (Strain) পড়ে। তবে এটি স্থায়ী কোনো ক্ষতি করে না।

প্রশ্ন ৪. আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ে, এর সমাধান কী?

  • উত্তর: বেশিক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যায়, তখন রিফ্লেক্স হিসেবে চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। এর সমাধান হলো ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা এবং মাঝে মাঝে লুব্রিকেটিং আই ড্রপ (ডাক্তারের পরামর্শে) ব্যবহার করা।

প্রশ্ন ৫. গাজর খেলে কি সত্যিই চোখের জ্যোতি বাড়ে?

  • উত্তর: গাজরে প্রচুর ভিটামিন-এ আছে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু আপনার যদি মায়োপিয়া বা হাইপারমেটোপিয়া (চশমার পাওয়ারজনিত সমস্যা) থাকে, তবে গাজর খেয়ে সেটা ঠিক করা যাবে না। এটি চোখকে সুস্থ রাখে, কিন্তু চশমার বিকল্প নয়।

প্রশ্ন ৬. নাইট মোড (Blue Light Filter) কি আসলেই কাজ করে?

  • উত্তর: হ্যাঁ, কাজ করে, কিন্তু সেটা limited scope-এ। এটি ব্লু লাইটের পরিমাণ কমায়, ফলে চোখের strain এবং ঘুমের উপর positive impact পড়ে। কিন্তু এটা Digital Eye Strain-এর একমাত্র solution নয়। Proper lighting এবং frequent breaks-এর বিকল্প নেই।

প্রশ্ন ৭. অন্ধকারে টিভি দেখা কি একই রকম ক্ষতিকর?

  • উত্তর: Absolutely. বরং টিভি সাধারণত ফোন বা ল্যাপটপের চেয়ে বড় এবং দূরে থাকে, কিন্তু অন্ধকার রুমে টিভির screen-এর সাথে surrounding area-এর contrast অনেক বেশি হয়, যা চোখের জন্য extra stress-ful।

প্রশ্ন ৮. শিশুদের উপর এর প্রভাব কেমন?

  • উত্তর: বাচ্চাদের চোখ অনেক বেশি sensitive। তাদের চোখের গঠন চলছে। তাই তাদের ক্ষেত্রে অন্ধকারে স্ক্রিন দেখার impactটা আরও grave হতে পারে। মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, পড়ালেখায় মনোযোগের অভাব – এই symptoms দেখা দিতে পারে।

প্রশ্ন ৯. বই পড়ার ক্ষেত্রে কি একই কথা প্রযোজ্য?

  • উত্তর: বইয়ের ক্ষেত্রেও একই logic। অন্ধকারে বই পড়ার সময় চোখকে printed letters-এর উপর ফোকাস করতে বেশি struggle করতে হয়, কারণ light কম। ফলে চোখের muscle-এ strain পড়ে। তাই বই পড়তেও যথেষ্ট আলোর ব্যবস্থা করা উচিত।

প্রশ্ন ১০. Anti-glare glasses কি সাহায্য করে?

  • উত্তর: Definitely. Anti-glare coating screen বা light-এর reflection কমিয়ে চোখের strain কমাতে সাহায্য করে। যদি আপনার দৈনিক স্ক্রিন টাইম ৪-৫ ঘন্টার বেশি হয়, তাহলে একটা good quality anti-glare glass নেওয়া excellent investment।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

কাজীআরিফুল ডট কমে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url