রাতে ঘুমানোর আগে পড়ার জন্য বেশ কয়েকটি সূরা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হল:
**সুরা নাস** হলো কুরআনের ১১৪ নম্বর সূরা। এটি পাঠ করলে শয়তান থেকে হেফাজত পাওয়া যায়।
এছাড়াও, রাতে ঘুমানোর আগে যেসব দোয়া পড়া যেতে পারে সেগুলির মধ্যে রয়েছে:
- * **আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া**
- * **আল্লাহুম্মা লাকাসমিয়া ওয়া লাকানুসুসি ওয়া লাকা মারিয়াদি**
- * **আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নাম ওয়া মিন আজাবি ফিরদাউস ওয়া মিন ফিতানিল মাহইয়া ওয়াল মামাত**
- * **আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিমাউলিকা ওয়া কুদরাতিকা আন তাকদিল হাজাল হাল লিহাল আহসানি**
- **আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া** অর্থাৎ, "হে আল্লাহ, তোমার নামে আমি মরে যাই এবং তোমার নামেই বেঁচে উঠি।"
- **আল্লাহুম্মা লাকাসমিয়া ওয়া লাকানুসুসি ওয়া লাকা মারিয়াদি** অর্থাৎ, "হে আল্লাহ, আমার চেহারা তোমার দিকে, আমার হাত তোমার কাছে, আমার সমস্ত আশা তোমার প্রতি নির্ভর করে।"
- **আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নাম ওয়া মিন আজাবি ফিরদাউস ওয়া মিন ফিতানিল মাহইয়া ওয়াল মামাত** অর্থাৎ, "হে আল্লাহ, আমি তোমার আশ্রয় চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, ফিরদাউসের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে।"
- **আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিমাউলিকা ওয়া কুদরাতিকা আন তাকদিল হাজাল হাল লিহাল আহসানি** অর্থাৎ, "হে আল্লাহ, আমি তোমার সম্পদ ও ক্ষমতার কসম করে তোমার কাছে প্রার্থনা করি যে তুমি এই অবস্থাকে আমার জন্য সর্বোত্তম করে দাও।"
এই সবগুলি আমল ও দোয়া পড়ার মাধ্যমে রাতে ঘুমের আগে আত্মার শান্তি ও প্রশান্তি লাভ করা যায় এবং পরকালের জন্য সওয়াব অর্জন করা যায়।
ঘুমানোর আগে ২১ বার বিসমিল্লাহ বললে কি হয়?
ঘুমানোর আগে ২১ বার বিসমিল্লাহ পড়লে অনেক উপকার হয়। এটি একটি সুন্নাত আমল, যা নবী করিম (সা.) নিজে পালন করেছেন।
বিসমিল্লাহের অর্থ হল "আল্লাহর নামে"। এটি একটি শক্তিশালী আমল, যা আমাদেরকে আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভের সুযোগ করে দেয়।
ঘুমানোর আগে ২১ বার বিসমিল্লাহ পড়লে নিম্নলিখিত উপকারিতা হয়:
- * **আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ হয়।**
- * **শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।**
- * **ঘুম ভালো হয়।**
- * **স্বপ্ন ভালো হয়।**
- * **স্বপ্নে ভয় দেখার সম্ভাবনা কমে যায়।**
এছাড়াও, ঘুমানোর আগে ২১ বার বিসমিল্লাহ পড়লে আমাদের মনের মধ্যে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত হয়। এটি আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি আরও বেশি ভালোবাসা ও আনুগত্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
ঘুমানোর আগে ২১ বার বিসমিল্লাহ পড়ার জন্য নিম্নলিখিত দোয়াটি পড়া যেতে পারে:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
ব্যাখ্যা: "আমি সর্বশক্তিমান ও করুণাময় আল্লাহর নামে আমার হাত তুলছি। পৃথিবীতে বা আসমানে কোন কিছুই আমাকে আঘাত করতে পারে না যেমন আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি। তিনি শ্রবণ ও জ্ঞান উভয়েরই অধিকারী।"
এই দোয়াটি পড়ার পর, আমরা আমাদের হাতের তালুতে ফুঁ দিতে পারি এবং তা দিয়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত বুলিয়ে দিতে পারি। এতে আমাদের শরীর ও মনে শান্তি ও প্রশান্তি আসে।
ঘুমানোর আগে দোয়া
**ঘুমানোর আগের দোয়া**
**উচ্চারণ:**
আল্লাহুম্মা বিসমিকাল আমুতু ওয়া আহইয়া।
**অর্থ:**
হে আল্লাহ! তোমার নামে ঘুমাই আর তোমার নামেই জেগে থাকি।
**ফজিলত:**
এই দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা ঘুমন্ত ব্যক্তির ঈমান ও নিরাপত্তা রক্ষা করেন।
**প্রয়োজনীয়তা:**
ঘুমানোর আগে এই দোয়াটি পাঠ করা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এতে আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকত লাভ হয়।
**বিস্তারিত:**
ঘুম একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এটি আমাদের শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেয়। ঘুমের মাধ্যমে আমরা নতুন শক্তি ও ক্ষমতা অর্জন করি। তাই ঘুমের আগে আল্লাহর কাছে সুন্দর ঘুমের জন্য দোয়া করা উচিত।
হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর আগে এই দোয়াটি পাঠ করতেন। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি এই দোয়াটি পাঠ করবে, তার ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় পর্যন্ত তার ঈমান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা হবে।”
এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে ঘুমের জন্য হেল্প চাইছি। আমরা বলছি যে, আমরা তোমারই নামে ঘুমাই এবং তোমার নামেই জাগ্রত হই। অর্থাৎ, আমাদের ঘুম ও জাগরণ সবই তোমার ইচ্ছা ও নিয়ন্ত্রণে। তুমি আমাদের ঘুমকে সুন্দর ও প্রশান্তিদায়ক করে দাও।
এই দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে সুন্দর ঘুমের জন্য রহমত ও বরকত চাইছি।
রাতে ঘুমানোর আগে করণীয়
আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) এর বাণী "যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে এই দুআ পাঠ করবে, সে রাতে মারা গেলে মুমিন হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে।" আর যদি কেউ সকালে এই দুআটি বলে এবং সেদিন মারা যায়, তবে সে মুমিন হিসাবে মারা যাবে।
ঘুমানোর আগে জিকির
ঘুমানোর আগে জিকির করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত আমল। এটি শরীর ও মনকে প্রশান্ত করে এবং সুন্দর স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করে। হাদিস শরিফে ঘুমানোর আগে জিকির করার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
**ঘুমানোর আগে জিকির করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল হল:**
* **তিনকুল পড়ে ফুঁ দেওয়া:** তিনকুল হল সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস। এই তিনটি সুরা পড়ে তাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করলে শয়তান থেকে হেফাজত হয়।
* **আয়াতুল কুরসি পড়া:** আয়াতুল কুরসি পড়ার ফলে শয়তান দূরে থাকে এবং ঘুম শান্তিপূর্ণ হয়।
* **সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া:** সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়ার ফলে শয়তান থেকে হেফাজত হয় এবং জান্নাতের অঙ্গীকার দেওয়া হয়।
* **সুরা কাফিরুন পড়া:** সুরা কাফিরুন পড়ার ফলে কুফরের গোমরাহি থেকে হেফাজত হয়।
* **কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়া:** কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়ার ফলে ঘুম শান্তিপূর্ণ হয় এবং স্বপ্নে আল্লাহকে দেখার সুযোগ হয়।
* **ডান হাত গালের নিচে রেখে দোয়া পড়া:** ডান হাত গালের নিচে রেখে নিম্নলিখিত দোয়া পড়া:
```
بِسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
```
অর্থ: "হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি ঘুমাই এবং তোমার নামেই জাগ্রত হই।"
এই আমলগুলোর পাশাপাশি ঘুমানোর আগে বিছানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নেওয়া, ঘরে আলো কমিয়ে দেওয়া, ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে ফজরের নামাজের নিয়ত করে নেওয়া, খাবার খাওয়ার পর দাঁড়িয়ে না থাকা ইত্যাদি বিষয়গুলোও লক্ষ্য রাখা উচিত।
কাজীআরিফুল ডট কমে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url