নির্বাচনে মানুষের দাম ৫০০ টাকা ভোটের বাজার রাজনীতি
নির্বাচনে মানুষের দাম মাত্র ৫০০ টাকা? ভোটের বাজারে মানবিকতার মূল্য কত
- নির্বাচনে মানুষের দাম ৫০০ টাকা ভোটের বাজার রাজনীতি
- নির্বাচনে ভোটারদের টাকা দিয়ে কেনা
- ভোট কেনার রাজনীতি বাংলাদেশে
- নির্বাচনী প্রচারণায় টাকার বিনিময়ে ভোট
- গণতন্ত্রে মানুষের মূল্য কত
- রাজনৈতিক দুর্নীতি ও ভোট কেনাবেচা
- নির্বাচনে ক্যাশ ডিস্ট্রিবিউশন
- ভোটার সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ
- ইলেকশন ক্যাম্পেইনে টাকার ভূমিকা
ভোটের রাজনীতি, electoral corruption, money politics, ভোটার নিপীড়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, political commercialization, vote buying, নির্বাচনী স্বচ্ছতা, মানুষের মর্যাদা, সামাজিক সচেতনতা
ভেবে দেখেছেন কখনো... একটা গরুর দাম ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, ছাগলের দাম ১০ হাজার, এমনকি একটা মুরগীর দামও হাজার টাকা — কিন্তু নির্বাচনে মানুষের দাম মাত্র ৫০০ টাকা? হাস্যকর, তাই না? কিন্তু এটাই বাস্তবতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটা স্যাটায়ার পোস্টে এই তুলনাটা দেখে প্রথমে হাসি পেলেও পরে মনে একটা তিক্ততা রয়ে যায়। কারণ এই ব্যঙ্গাত্মক লেখার পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটা ভয়ংকর সত্য — যেখানে পশুর দাম মানুষের চেয়ে বেশি, অন্তত নির্বাচনের বাজারে। আমি যখন এই ছবিটা প্রথম দেখলাম, একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করলো: আসলেই কি আমরা এতটা সস্তা হয়ে গেছি? আমাদের ভোটের মূল্য, আমাদের মতামতের দাম, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার — এসবের বাজারমূল্য কি সত্যিই মাত্র কয়েকশ টাকা?
দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই নির্বাচনের সময় ভোট কেনাবেচা একটা common practice হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু টাকা, একটু চাল-ডাল, একটা শাড়ি বা লুঙ্গি — ব্যস, ভোট পকেটে! এই ব্লগে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো এই রাজনৈতিক বাণিজ্যের আসল চেহারা। কীভাবে আমরা নিজেরাই নিজেদের মূল্য কমিয়ে ফেলছি, কেন এই সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি, এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের করণীয় কী — এসব নিয়েই আজকের আলোচনা। কারণ নিজে জানলাম, এখন অন্যকে জানানোর পালা। এই ব্লগটি আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।
নির্বাচনে 'মানুষের দাম' — ব্যঙ্গের আড়ালে যে তিক্ত সত্য
প্রথমেই বলি, ওই পোস্টটা একটা satire। কিন্তু সেটা কোনো নির্দোষ হাসির উপাদান না। বরং এটা একটা সোশ্যাল কমেন্টারি — আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার উপর একটা ধারালো কশাঘাত।
ভাইরাল পোস্টের পেছনের গল্প
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হওয়া ওই লিস্টটায় লেখা ছিল:
- হাঁস/মুরগী (১) — ১০০০ টাকা
- ছাগল (১) — ১০,০০০ টাকা
- গরু (১) — ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা
- মানুষ (৫ জন নির্বাচন) — মাত্র ৫০০ টাকা!
দেখুন তো, ৫ জন মানুষ মিলে মাত্র ৫০০ টাকা! মানে প্রতিজন মানুষের দাম মাত্র ১০০ টাকা করে। একটা ডিম-রুটির নাস্তার চেয়েও কম। এই তুলনাটা হাস্যরসাত্মক হলেও ভেতরে লুকিয়ে আছে একটা বেদনাদায়ক বাস্তবতা: আমরা নিজেরাই আমাদের মূল্য কমিয়ে ফেলেছি। কেন এটা শুধু একটা জোকস নয়? কারণ এটা সত্যি ঘটে। প্রতিটা নির্বাচনের আগে দেখবেন হাজার হাজার টাকার নোট বিতরণ হচ্ছে। কিছু এলাকায় তো ভোটারদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টাকা বিতরণের ছবি ভাইরাল হয়। কেউ কেউ শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে ভোট কিনছে, কেউ বা চাল-ডালের প্যাকেট। এবং দুঃখজনকভাবে, অনেকেই এটা নিচ্ছেও। কারণ দারিদ্র্য, অসহায়ত্ব, কিংবা কখনো কখনো শুধুমাত্র "ফ্রিতে পাওয়া যাচ্ছে তো নিয়ে নিই" মানসিকতা। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি — এই ৫০০ টাকার বিনিময়ে আমরা বিকিয়ে দিচ্ছি আমাদের পরবর্তী ৫ বছরের ভবিষ্যৎ।
কেন ভোট বিক্রি করা মানে নিজের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখা
চলুন একটু গভীরে যাই। টাকার লোভে ভোট দিলে কী হয়? ধরুন, আপনি ৫০০ টাকা নিয়ে একজন প্রার্থীকে ভোট দিলেন। মনে হচ্ছে লাভই তো! কিন্তু পরবর্তী ৫ বছরে সেই প্রার্থী যদি দুর্নীতিবাজ হয়, এলাকার উন্নয়ন না করে, আপনার সন্তানের স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ না দেয়, হাসপাতালে ডাক্তার না রাখে — তখন আপনার ক্ষতি কত? ৫০০ টাকা নয়, ৫ লাখ টাকাও সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে না। একজন সৎ, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে তিনি আপনার এলাকায় রাস্তা বানাবেন, স্কুল-কলেজ উন্নত করবেন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন। সেই সুবিধার মূল্য কি মাত্র কয়েকশ টাকা? Electoral Corruption এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব।
- গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয় - ভোট কেনাবেচা মানে যোগ্যতা নয়, টাকাই মূল শক্তি। ফলে অযোগ্য, দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতায় আসে।
- সমাজে নৈতিক অবক্ষয় - যখন মানুষ বুঝতে শুরু করে টাকা দিলে সবকিছু কেনা যায়, তখন নৈতিক মূল্যবোধ ধসে পড়ে।
- দারিদ্র্য আরও বাড়ে - দুর্নীতিবাজ নেতারা উন্নয়নের টাকা নিজেদের পকেটে পুরে নেয়। ফলে গরীব আরও গরীব হয়, ধনী আরও ধনী।
- তরুণ প্রজন্মের আশাভঙ্গ - যোগ্য তরুণরা যখন দেখে মেধা নয়, টাকাই সব — তখন তারা হতাশ হয়, দেশ ছেড়ে পালাতে চায়।
Money Politics কীভাবে আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছে
এবার আসি একটু technical দিক থেকে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানে একটা টার্ম আছে — Money Politics। মানে হলো, টাকার জোরে রাজনীতি করা। ভোট কেনাবেচার বিভিন্ন রূপ।
- সরাসরি ক্যাশ ডিস্ট্রিবিউশন - নির্বাচনের আগের রাতে ভোটারদের ঘরে গিয়ে টাকা দেওয়া। কখনো ২০০, কখনো ৫০০, কখনো ১০০০ টাকা। এলাকাভেদে এটা vary করে।
- উপহার বিতরণ - শাড়ি, লুঙ্গি, চাল-ডাল, তেল-চিনি — এসব দিয়ে ভোট কেনা। বিশেষ করে নারী ভোটারদের টার্গেট করে শাড়ি দেওয়া হয়।
- ভোজ আয়োজন - কিছু এলাকায় নির্বাচনের আগে বিরাট ভোজের আয়োজন করা হয়। সবাইকে খাওয়ানো হয়, ভোট চাওয়া হয়।
- অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি - "আমাকে ভোট দাও, তোমার গলির রাস্তা পাকা করে দেব" — এই ধরনের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু নির্বাচনের পরে সেসব প্রতিশ্রুতি হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
বাংলাদেশে ভোট কেনার ইতিহাস
স্বাধীনতার পর থেকেই কমবেশি এই প্রথা ছিল। কিন্তু গত দুই-তিন দশকে এটা epidemic-এর মতো ছড়িয়েছে। ২০০১ সালের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনেই money politics বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ — প্রতিবারই নতুন নতুন কৌশল, নতুন নতুন পদ্ধতি। ইলেকশন কমিশন চেষ্টা করেছে এটা বন্ধ করতে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে implementation দুর্বল হওয়ায় তেমন সুফল আসেনি।
আমরা কি সত্যিই এতটা অসহায়?
এখন প্রশ্ন হলো — আমাদের কি কিছুই করার নেই? না, একদম নয়। আমরা অসহায় নই। আমরা শক্তিশালী। আমাদের হাতেই আসল power — আর সেটা হলো আমাদের ভোট। একজন সচেতন নাগরিকের করণীয়।
- টাকা নেবেন না - যতই লোভনীয় হোক, ভোটের বিনিময়ে টাকা নেবেন না। কারণ সেই টাকা আসলে আপনারই টাকা — সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা, যা দুর্নীতি করে লুট করা হয়েছে।
- যোগ্যতা দেখে ভোট দিন - প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সততা, অতীত কর্মকাণ্ড — এসব যাচাই করুন। দলীয় প্রতীক নয়, ব্যক্তিকে দেখুন।
- অন্যদের সচেতন করুন - আপনার পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধুদের বোঝান। সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করুন। এই ব্লগটাও শেয়ার করতে পারেন!
- ভোট কেনাবেচার প্রমাণ পেলে রিপোর্ট করুন - ইলেকশন কমিশনের হটলাইন নম্বরে রিপোর্ট করুন। ছবি-ভিডিও তুলে প্রমাণসহ অভিযোগ করুন।
- তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে - বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই লড়াইয়ে নামতে হবে। কারণ ভবিষ্যৎ তো তাদেরই।
ডিজিটাল যুগে ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির উপায়
আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করছি। তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে সচেতনতা ছড়ানো অনেক সহজ হয়ে গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা
Facebook, YouTube, TikTok — এসব প্ল্যাটফর্মে লাখো মানুষ active। একটা ভালো পোস্ট বা ভিডিও viral হলে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ধরুন, আপনি একটা ছোট্ট ভিডিও বানালেন — "কেন ভোট বিক্রি করা উচিত নয়" — এই থিমে। সেটা যদি হাজার জন দেখে, তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেও যদি সচেতন হয়, তাহলে সেটা একটা বড় অর্জন।
ব্লগ ও ওয়েবসাইটের ভূমিকা
আমাদের এই ব্লগের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো অসাধারণ কাজ করতে পারে। কারণ এখানে আমরা detail-এ গিয়ে বিষয়গুলো explain করতে পারি। SEO-optimized content তৈরি করলে Google Search-এ rank করে, ফলে organic traffic আসে। মানে হলো, যারা Google-এ "নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা" বা এই ধরনের কিছু সার্চ করবে, তারা আপনার ব্লগে চলে আসবে। এবং তারা পড়বে, জানবে, সচেতন হবে।
Community Engagement
শুধু লেখালেখি নয়, community তে নামতে হবে। স্থানীয় যুব সংগঠন, সামাজিক ক্লাব, NGO-দের সাথে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগে awareness campaign চালাতে হবে। পোস্টার, লিফলেট, street drama — যেকোনো মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
আশার আলো — পরিবর্তন সম্ভব
আমি জানি, এতক্ষণ অনেক নেগেটিভ কথা শুনলেন। মনে হচ্ছে সব কিছু খারাপ, কিছুই হবে না।
কিন্তু না। পরিবর্তন সম্ভব। এবং সেটা শুরু হয়েছেও। কিছু ইতিবাচক উদাহরণ:
- সচেতন তরুণদের উত্থান - সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, তরুণরা আগের চেয়ে বেশি সচেতন। তারা প্রশ্ন করছে, জবাবদিহিতা চাইছে।
- সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিজম - অনেক ব্লগার, ইউটিউবার, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এখন সামাজিক ইশ্যুতে কথা বলছে। তারা মানুষকে educate করছে।
- NGO-দের কাজ:- বিভিন্ন NGO এবং civil society সংগঠন voter education নিয়ে কাজ করছে। তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে মানুষকে বোঝাচ্ছে।
- ইলেকশন কমিশনের নতুন উদ্যোগ
- যদিও এখনো অনেক কাজ বাকি, তবুও ইলেকশন কমিশন কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। যেমন — EVM (Electronic Voting Machine) চালু করা, যাতে ভোট জালিয়াতি কমে।
আপনিও অংশীদার হতে পারেন:
হ্যাঁ, আপনি। ঠিক আপনি যে এই ব্লগটা পড়ছেন। আপনি চাইলে এখনই শুরু করতে পারেন। কীভাবে?
এই ব্লগটা শেয়ার করুন আপনার Facebook, WhatsApp, Messenger- এ আপনার এলাকায় একটা ছোট awareness meeting আয়োজন করুন।
- তরুণদের নিয়ে একটা youth forum তৈরি করুন
- নির্বাচনের সময় volunteer হিসেবে কাজ করুন
- ছোট ছোট পদক্ষেপ মিলে বড় পরিবর্তন আসে।
আমাদের মর্যাদা আমাদেরই ফিরিয়ে আনতে হবে
শেষ কথায় আসার আগে একটা কথা বলি — মানুষের মূল্য ৫০০ টাকা হতে পারে না। হবেও না। কিন্তু আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের মূল্য কমিয়ে দিই, তাহলে অন্যরা আমাদের মূল্যায়ন করবে কেন? গরু-ছাগলের দাম বেশি কারণ ওগুলো বিনিয়োগ। কিন্তু আমরা মানুষ — আমরা শুধু বিনিয়োগ নই, আমরা এই দেশের মালিক। আমাদের ভোট মানে শুধু একটা কাগজে টিপসই নয়। এটা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা। তাই এই ক্ষমতাকে কোনো মূল্যেই বিক্রি করা যায় না। না ৫০০ টাকায়, না ৫ লাখ টাকায়ও।
প্রতিটি ভোট মূল্যবান - আপনার একটা ভোট পাল্টে দিতে পারে পুরো constituency-র ফলাফল। অনেক নির্বাচনে দেখা গেছে মাত্র কয়েক ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় হয়েছে। তাহলে আপনার ভোটের মূল্য কত? অসীম। Priceless.
Call to Action (কল টু অ্যাকশন)
তাহলে এবার action-এর সময়। শুধু পড়ে চুপচাপ বসে থাকলে কিছু হবে না। আপনাকে নামতে হবে মাঠে। আজই শুরু করুন:
- এই ব্লগটি শেয়ার করুন
- যত বেশি মানুষের কাছে এই message পৌঁছাবে, তত বেশি মানুষ সচেতন হবে।
- আপনার পরিবারে আলোচনা করুন। ডিনার টেবিলে, চা পানের সময় — এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুন। বাবা-মা, ভাইবোনদের বোঝান।
- যুব সংগঠনে যোগ দিন। আপনার এলাকায় কোনো সামাজিক বা যুব সংগঠন থাকলে যোগ দিন। না থাকলে নিজেই একটা তৈরি করুন।
- সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হন - আপনার Facebook, YouTube channel-এ এই বিষয়ে content তৈরি করুন।
- নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করুন
- বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়। সেখানে volunteer হিসেবে কাজ করতে পারেন।
মনে রাখবেন: নিজে জানুন, অন্যকে জানান — এটাই আমাদের ব্লগের মূলমন্ত্র।
FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী)
১. নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা কি আইনত অপরাধ?
- হ্যাঁ, একদম। বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) এবং নির্বাচন কমিশনের কোড অফ কন্ডাক্ট অনুযায়ী ভোট কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে জেল ও জরিমানা দুটোই হতে পারে। কিন্তু enforcement দুর্বল হওয়ায় এটা কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না।
২. ভোট কেনাবেচা দেখলে কোথায় অভিযোগ করবো?
- ইলেকশন কমিশনের হটলাইন নম্বরে অভিযোগ করতে পারেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোতেও রিপোর্ট করা যায়। সম্ভব হলে প্রমাণসহ (ছবি/ভিডিও) অভিযোগ জানান।
- আমি একজন সাধারণ মানুষ, আমার ভূমিকা কী?আপনার ভূমিকা অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ! প্রথমত, নিজে সচেতন থাকুন এবং সঠিক প্রার্থীকে ভোট দিন। দ্বিতীয়ত, আপনার পরিবার ও আশেপাশের মানুষকে সচেতন করুন। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক কন্টেন্ট শেয়ার করুন। প্রতিটি ব্যক্তির অবদান মিলে সমাজ পরিবর্তন হয়।
- তরুণরা কীভাবে এই পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে?
- তরুণদের হাতেই আসল শক্তি। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেইন চালাতে পারে, peer-to-peer awareness program করতে পারে, যুব সংগঠন তৈরি করতে পারে। এছাড়া নির্বাচনের সময় volunteer হিসেবে কাজ করা, voter education program আয়োজন করা — এসব করে তরুণরা বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের পোস্ট শেয়ার করা কি কার্যকর?
অবশ্যই! সোশ্যাল মিডিয়ার reach অসাধারণ। একটা ভালো পোস্ট বা মিম ভাইরাল হলে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছায়। এবং এটা আলোচনার জন্ম দেয়, মানুষ ভাবতে শুরু করে। তবে শুধু শেয়ার করলেই হবে না, real life-এ action নিতে হবে।
গণতন্ত্র রক্ষায় আমাদের দায়িত্ব কী?
গণতন্ত্র মানে শুধু voting নয়, এটা একটা জীবনযাপন পদ্ধতি। আমাদের দায়িত্ব হলো সচেতন নাগরিক হওয়া, জবাবদিহিতা চাওয়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এই মূল্যবোধ শেখানো। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে?
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অসাধারণ শক্তিশালী টুল। ব্লগ, ইউটিউব, পডকাস্ট, ইনফোগ্রাফিক্স — এসবের মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলো সহজভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়। SEO-optimized content তৈরি করলে Google Search-এ rank হয়, ফলে organic traffic পাওয়া যায়। আমাদের মতো ব্লগগুলো এই কাজে ব্রিজের ভূমিকা পালন করে।
শেষকথা
আজকের এই লম্বা আলোচনা শেষ করছি একটা আবেগঘন অনুরোধ দিয়ে। দেখুন, আমরা সবাই জানি যে আমাদের দেশে অনেক সমস্যা আছে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি, অসাম্য — হাজারো সমস্যা। কিন্তু এসব সমস্যার মূল শিকড় লুকিয়ে আছে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার দুর্বলতার মধ্যে। যতদিন পর্যন্ত আমরা টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করবো, ততদিন পর্যন্ত আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। কিন্তু পরিবর্তন অসম্ভব নয়। ইতিহাস সাক্ষী — মানুষই পারে অসম্ভবকে সম্ভব করতে।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তার প্রমাণ। একাত্তরে এদেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা — সবাই মিলে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাহলে আজ কেন আমরা পারবো না নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে? মানুষের দাম ৫০০ টাকা নয়, এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমি জানি, একা একজনের পক্ষে বিশাল কিছু করা সম্ভব নয়। কিন্তু ছোট ছোট প্রচেষ্টা মিলে বড় আন্দোলন হয়। আপনি যদি আজ একজনকে সচেতন করতে পারেন, সেই একজন আরেকজনকে করবে। এভাবে ধীরে ধীরে একটা জাগরণ তৈরি হবে। এবং সেই জাগরণই পারবে আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে। আমাদের ব্লগ "নিজে জানুন অন্যকে জানান" — এই স্লোগান নিয়েই চলছে। আমরা চেষ্টা করি প্রতিটি সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন করতে। আপনি যদি এই ব্লগটি পড়ে একটুও উপকৃত হন, তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। কারণ শেয়ার করার মধ্যেই পূর্ণ তৃপ্তি। এবং মনে রাখবেন — আপনার ভোট আপনার শক্তি। এই শক্তিকে কখনোই বিক্রি করবেন না। চলুন, আমরা সবাই মিলে একটা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি। এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজেদের ভূমিকা রাখি। কারণ দেশ আমাদের, ভবিষ্যৎও আমাদের। এবং সেই ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্বও আমাদেরই।
আজই শুরু করুন। এখনই শুরু করুন।
ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য। আশা করি, আপনিও এই পরিবর্তনের অংশীদার হবেন। শেয়ার করুন এই পোস্ট | কমেন্টে জানান আপনার মতামত | আমাদের ব্লগ সাবস্ক্রাইব করুন]


কাজীআরিফুল ডট কমে নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url